২০১৬ অর্থ বছরের বার্ষিক বিক্রয় সমাপনী
May 25, 2017
পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালন
May 25, 2017
 
 

ধকল প্রতিরোধে ইমুনোস্টিম

‘ধকল’ একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ, বিশেষকরে পোলট্রি খামারীদের জন্য। একদিন বয়সী মুরগীর বাচ্চা হ্যাচারী থেকে ফার্মে নিয়ে আসা মুরগীর জীবনের প্রথম ধকল, টীকা প্রদানের পরবর্তী সময়কাল- ধকলের দ্বিতীয় পর্যায় বলা যেতে পারে। এছাড়াও দেশের বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাপমাত্রার তারতম্য জনিত ধকল যেকোন ধরনের রোগ পরবর্তী সময় ও ধকলের আরেকটি পর্যায়। এসমস্ত ধকল প্রতিরোধে আমরা অনেকদিন থেকেই বিভিন্ন রকমের ধকল প্রতিরোধক পরামর্শ দিয়ে থাকি। যা সাধারণত বিভিন্ন ভিটামিন এবং মিনারেল।
বিজ্ঞানের এক সম্ভাবনাময় আবিষ্কার প্রোবায়োটিক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোবায়োটিকের সংজ্ঞা পড়েছি। কিন্তু সে সময় ব্যবহার সম্পর্কে খুব একটা জানাছিল না। কর্মক্ষেত্রে এসে প্রোবায়োটিকের ব্যাপারে আরো বিশদ জানলাম। প্রোবায়োটিক হচ্ছে কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং ঈস্টের মিশ্রণ ।

আমাদের দেহে কিংবা যেকোন প্রাণীর দেহেই উপকারী এবং ক্ষতিকর দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়াই আছে। যেকোন রকমের প্রতিকূল পরিবেশে এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াই যত রকমের সমস্যার সৃষ্টি করে। [সাধারণত ক্ষরীয় পরিবেশেই (P^H>7) ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্য যথার্থ। সেজন্য পোলট্রির পরিপাকতন্ত্রের P^H অম্লীয় (P^H>7) থাকাই বাঞ্ছনীয়। এতে করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পরিপাকতন্ত্রে বসবাসের অনুপযোগী হয়।] প্রোবায়োটিকে যেসব ব্যাকটেরিয়া এবং ঈস্টে থাকে সেগুলো এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যা দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, সাধারণত জীবনযাত্রা ব্যাহত করে সেগুলোকে মেরে ফেলে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। খাদ্যের বিভিন্ন নিউট্রিয়েন্ট হজমের মাধ্যমে খাদ্য রূপান্তরের হার(FCR) বাড়ায়। বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া সংঘটিত রোগ প্রতিরোধ করে।
এছাড়াও অনেক সময়ে দেখা যায় ভ্যাক্সিন দেওয়ার পরে পোলট্রিতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। মেনে সোজা কথায় ভ্যাকসিন কাজ করেনি। প্রোবায়োটিকের ব্যবহার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। ইমুনোস্টিম এ আছে প্রোবায়োটিক, এনজাইম, মিনারেল,ভিটামিন। তাই যেকোন ধরনের প্রতিকূলতায় ব্যবহার করা যায় নির্দ্বিধায়।
এটি পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। মুরগীকে সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ করে, খাদ্য রূপান্তরের হার বারায়।এনজাইম হজম ত্বরান্বিত করে। নিউট্রিয়েন্ট হজমকে সহজ করে। ফলাফলে খামারীর খাদ্যের খরচ কমায় এবং খামারী আর্থিকভাবে লাভবান হয়। আলাদা করে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে না। এককথায় বলা যায়, এন্টিবায়োটিকের বিকল্প ব্যবহার।

Spread the love